সফল ওয়েব ডিজাইনার হওয়ার সেরা ১০ টিপস

আপনি যদি একজন পরিপূর্ণ ও সৃজনশীল ওয়েব ডিজাইনার হতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই অনেক পরিশ্রম করতে হবে। সফল ওয়েব ডিজাইনার হতে হলে কখনো শুধুমাত্র নিজের কাজ বা দক্ষতা নিয়েই পড়ে থাকা যাবে না। আপনাকে অন্যদের অভিজ্ঞতা থেকে বিভিন্ন বিষয় শিখে নিতে হবে।

সকল ওয়েব ডিজাইন মাস্টারদের নিজস্ব কিছু সিক্রেট থাকে, যা তারা কারো সাথে শেয়ার করেন না। তাদের কাজেই তাদের অভিজ্ঞতা এবং সৃজনশীলতা প্রকাশ পায়। আজ আমরা নতুন ওয়েব ডিজাইনারদের জন্য ১০ টি কার্যকরী টিপস শেয়ার করবো। আশা করি এটি আপনাদের ওয়েব ডিজাইন শিখতে এবং একজন প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার হতে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে।

10 web design tips for beginners, Web Design Tips, How to be a succesfull web designer,

১। নেভার স্টপ লারনিং

এটি ওয়েব ডিজাইনিং এ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আপনি নতুন হন কিংবা এক্সপার্ট, আপনাকে সবসময়ই বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের স্কিল ডেভেলপ করা উচিত। ওয়েব ডিজাইন সেক্টরটি দ্রুতগতিতে সামনে এগোচ্ছে। আপনি যদি আপডেটেড না থাকেন বা স্কিল ডেভেলপ না করেন, তাহলে নিশ্চিতভাবে অন্যদের চেয়ে আপনি পিছিয়ে পড়বেন।

যখনই নতুন কিছু সম্বন্ধে জানবেন তখনই সেটি নিয়ে রিসার্চ করুন। দরকার হলে ছোটখাট টেস্ট প্রজেক্ট বানিয়ে ফেলুন। এর ফলে আপনি অন্যদের চেয়ে দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পারবেন এবং আপনার স্কিল ডেভেলপ করতে পারবেন। " বিশ্ব জোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র ", কবিতাটি মনে আছে তো ?

২। ডিজাইন ট্রেন্ড সম্পর্কে সচেতন হোন

কোনো ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে গেলে আপনাকে অবশ্যই ডিজাইন ট্রেন্ড সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। ৫ বছর আগের ওয়েবসাইটগুলোর ডিজাইন এবং বর্তমান ওয়েবসাইটগুলোর ডিজাইন কম্পেয়ার করলে আপনি বিষয়টি বুঝতে পারবেন। কেউই তার সাইটে মান্ধাতা আমলের ডিজাইন চাইবে না।

আপনি বিভিন্ন ফোরাম, জনপ্রিয় ওয়েবসাইট, ম্যাগাজিন ফলো করতে পারেন। বিভিন্ন ব্লগে ডিজাইন আইডিয়া, টিউটোরিয়াল ইত্যাদি পেতে পারেন। এছাড়াও এক্সপার্ট ডিজাইনারদের তৈরী করা ওয়েবসাইটগুলো বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে আপনি নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারেন।

৩। স্কেচবুক ব্যবহার

ওয়েব ডিজাইনের জন্য স্কেচবুককে একটি ক্লাসিক টুল বলা যেতে পারে। যখনই আপনি নতুন কোনো কনসেপ্ট নিয়ে কাজ করবেন বা কোনো নতুন আইডিয়া মাথায় আসবে তখন স্কেচবুকে সেটি ড্রয়িং করতে পারেন। 

কাগজ, ট্যাবলেট বা ডেস্কটপ যে কোনো কিছুতেই স্কেচ করতে পারেন। এই টেকনিকটি আপনার ওয়েব ডিজাইনের প্রসেসটিকে আরো বেশি ইফেক্টিভ করে তুলবে।

৪। সহজ ডিজাইনে ফোকাস করুন

একজন ওয়েবসাইট ভিজিটর কখনোই Complex বা জটিল ওয়েব ডিজাইন চায় না। আপনি যদি সিম্পল এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি ডিজাইনের বদলে জগাখিচুড়ি লেভেলের ডিজাইন বানান তাহলে এটি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য নেগেটিভ প্রভাব ফেলবে।

একজন ভিজিটর যদি আপনার ওয়েবসাইট থেকে সহজে তার প্রয়োজনীয় জিনিসটি খুঁজে না পায়, তাহলে সে আর কোনোদিন আপনার ওয়েবসাইটে ঢুকতে চাইবে না। একজন ডিজাইনার হিসেবে আপনি এটি নিশ্চয়ই চাইবেন না।

এছাড়াও সিম্পল ডিজাইনের ওয়েবসাইট আপডেট রাখা সহজ এবং এটি যেকোনো ব্রাউজারে সহজে লোড হয়।

৫। প্রফেশনাল মানের ডিজাইন তৈরী

প্রফেশনাল ডিজাইন মানেই Complicated ডিজাইন নয়। আপনার ডিজাইনটি সহজ, পরিষ্কার কিন্তু কার্যকরী হতে হবে। ধরুন, আপনি চাকরীর ইন্টারভিউ দিতে যাবেন। আপনি নিশ্চয়ই টিশার্ট আর জিন্স প্যান্ট না পড়ে ফরমাল ড্রেস পড়বেন। 

আপনার ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনই। সাইটের প্রফেশনাল ডিজাইন আপনার ইউজারদের আপনার সাইট সম্পর্কে ভালো ধারণা দেয়। এছাড়া মার্কেটপ্লেস গুলোতে প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনারের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

৬। সাইটের স্যাম্পল তৈরির জন্য সিম্পল টুলস

কোনো পেইজের প্রোটোটাইপ তৈরী করার জন্য অনেকেই ফটোশপ বা অন্যান্য সফটওয়্যার ব্যবহার করে। তবে ফটোশপে অভ্যস্ত না হলে সময় নষ্ট না করে আপনি অন্য সিম্পল টুলসগুলো ব্যবহার করতে পারেন। 

যেমনঃ পাওয়ারপয়েন্ট বা কী-নোট ব্যবহার করে সহজেই আপনি স্যাম্পল তৈরী করতে পারেন। আপনি আপনার কাজগুলোকে যত বেশি simplify করতে পারবেন, আপনি তত বেশি প্রোডাক্টিভ হতে পারবেন।

৭। হাই-কোয়ালিটি ইমেজ ব্যবহার

কখনোই ওয়েবসাইটে লো রেজুলশেনের ইমেজ ব্যবহার করবেন না। এটি আপনার ওয়েবসাইটের সৌন্দর্য নষ্ট করে। সবসময় হাই রেজুলেশন ছবি অ্যাড করার চেষ্টা করবেন। প্রফেশনাল ওয়েবসাইট ডিজাইনের ক্ষেত্রে এটি জরুরী একটি বিষয়।

ইন্টারনেটে পিক্সাবে, ফ্রিপিক এর মতো অনেক ওয়েবসাইটে আপনি ফ্রীতে অনেক হাই রেজুলেশন ফটো পাবেন। 

৮। মনের মতো কালার বাছাই

ওয়েব ডিজাইনের জন্য কালার সিলেকশন একটি অন্যতম বিষয়। এই কালারের মাধ্যমেই আপনি আপনার গোটা ওয়েবসাইটটিকে সাজিয়ে তুলবেন। সবসময় নির্দিষ্ট কয়েকটি কালার ওয়েবসাইটের ডিফল্ট কালার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। অতিমাত্রায় কালার ইফেক্ট আপনার ওয়েবসাইটের ডিজাইন নষ্ট করে দিতে পারে।

একজন ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে আপনার কালার সেন্স থাকা জরুরী। কোন রঙের সাথে কোন রঙ ভালো মানাবে সেটা শিল্পীই ভালো জানেন। আপনি যদি হলুদ ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদা রঙের লেখা দেন তাহলে কেউই লেখাগুলো বুঝতে পারবেনা। 

এই পোস্টটি পড়ুন ↪ ওয়েব ডিজাইনারদের জন্য দরকারী ৪ টি ওয়েবসাইট

আমি অনেক ব্লগার এবং ওয়েবসাইট মালিককে তাদের ওয়েবসাইটে ইচ্ছামতো কালার ব্যবহার করতে দেখেছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি তাদের ওয়েবসাইটকে আনপ্রফেশনাল এবং হিজিবিজি করে তোলে , যা কখনোই উচিত নয়।

৯। পারফরমেন্সের দিকে নজর দিন

ওয়েবপেইজ ডিজাইন করার পাশাপাশি আপনার সাইটের পারফরমেন্সের দিকেও লক্ষ্য রাখা জরুরী। আপনার ডিজাইন করা পেইজটি ব্রাউজারে লোড নিতে বেশি সময় লাগলে সেটি ইউজারদের জন্য বিরক্তির কারণ হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার ডিজাইন ভালো হলেও পারফরমেন্সে গলদ দেখা দেবে। এটি অনেকটা " উপরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট " এর মতো।

ডিজাইনের সময় অপ্রয়োজনীয় স্লাইডার, ইমেজ, ভিডিও ইত্যাদি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত ফটোগুলো নির্দিষ্ট রেজুলেশনে রাখার চেষ্টা করবেন। ইমেজগুলো কম্প্রেস করে ব্যবহার করলে বেশি ভালো হয়।

১০। সময়মতো অবসর নিন

সারাক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে থাকতে আমাদের ব্রেইন সেন্স ঘোলাটে হয়ে যায়। কম্পিউটার থেকে দূরে চলে যান। ফ্রেশ হয়ে আসুন। এটি আপনাকে নতুন কোনো আইডিয়া খুঁজে বের করতে সাহায্য করবে। 

কোনো একটা প্রজেক্ট ডিজাইন করার ফাকে চোখকে একটু বিশ্রাম দিলে আপনার একঘেয়েমী দূর হবে এবং ডিজাইনের প্রতি আরো বেশি ফোকাসড হতে পারবেন।

➲ ধারাবাহিকভাবে শেখা এবং কাজ চালিয়ে যান- সাফল্য আসবেই

ওয়েব ডিজাইনকে অনেকে ফ্লেক্সিবল বা নমনীয় সেক্টর বলেন। এখানে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন নতুন জিনিস যুক্ত হচ্ছে। অর্থাৎ, আপনাকে সবসময়ই শেখা এবং চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

আরো পড়ুনঃ ওয়েব ডিজাইনিং কিভাবে শুরু করব? ওয়েব ডিজাইনিং এর জন্য কি কি ভাষা শিখতে হয়?

উপরের ১০ টি টিপস আপনার Starting Point হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন। প্রতিশ্রুতিবদ্ধভাবে কাজ করলে সফলতা আসবেই ইনশাল্লাহ।

শীঘ্রই আমাদের ব্লগে ওয়েব ডিজাইন বিষয়ে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল পাবলিশ করার চিন্তাভাবনা করছি। সে পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ। 

Post a Comment

0 Comments