রাউটার কেনার সময় যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা উচিত

আপনি কী নতুন রাউটার কিনতে চাচ্ছেন? বা বর্তমান রাউটারটি আপগ্রেড করতে চাচ্ছেন? রাউটার কেনার সময় কী কী বিষয় বিবেচনা করা উচিত তা অনেকেই জানেন না।

বাজারে Tenda, Netgear, TP-Link, D-Link, Asus ইত্যাদির মতো ভালো মানের ব্র্যান্ডগুলো ছাড়াও অনেক লো-কোয়ালিটির রাউটার বিক্রি হয়। এগুলো উপরে ফিটফাট হলেও আদতে কোনো কাজেরই না। অনেকেই এসব রাউটার কিনে প্রতারিত হন।

আজকের এই পোস্টে ওয়্যারলেস রাউটার এর ব্যাপারে ভুল ধারণাগুলো ব্যাখা করার পাশাপাশি রাউটার কেনার সময় কোন কোন জিনিস লক্ষ্য রাখা উচিত সেসব নিয়ে আলোচনা করবো। তো, চলুন শুরু করি। 

কীভাবে সঠিক রাউটার কিনতে হবে? রাউটার সম্পর্কে বিস্তারিত, রাউটার ব্র্যান্ড, রাউটার কেনার আগে কী কী বিষয়ে জানা দরকার,

➥ স্ট্যান্ডার্ড

যেসব রাউটার 802.11ac স্ট্যান্ডার্ড সাপোর্ট করে সেগুলো এককথায় বেস্ট। 'ac' স্ট্যান্ডার্ডটি 802.11n এর চেয়ে তিনগুণ বেশি গতিতে ডেটা ট্রান্সফার করতে পারে। এটি 5GHz ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড ব্যবহার করে যা রেগুলার 2.4GHz ব্যান্ডের চেয়ে দ্রুত ফাইল ট্রান্সফার এবং স্ট্রিমিং মিডিয়ার জন্য ভালো নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্স দেবে।

সুতরাং, আপনি যখন রাউটার কিনবেন বা রাউটার আপগ্রেড করবেন তখন 802.11ac সাপোর্টেড রাউটার কেনার পরামর্শ থাকলো। তবে আপনার বাজেট কম থাকলে আপনি 'n' স্ট্যান্ডার্ড এর রাউটারও ব্যবহার করতে পারেন। 

➥ সিঙ্গেল ব্যান্ড / ডুয়াল ব্যান্ড

ওয়্যারলেস রাউটার দুটি ভিন্ন ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে -2.4GHz এবং 5GHz। সিঙ্গেল ব্যান্ড রাউটার 2.4GHz সাপোর্ট করে, তবে কিছু কিছু আপডেটেড রাউটারে 5GHz পাওয়া যায়। ডুয়াল-ব্যান্ড শুধুমাত্র 5GHz সাপোর্টেড।

আপনি যে এলাকায় বাস করছেন তার উপর নির্ভর করে আপনার সিঙ্গেল বা ডুয়াল-ব্যান্ড রাউটার কেনা উচিত। আপনি যদি ঘন জনবহুল এলাকায় বাস করেন তবে ডুয়াল-ব্যান্ড রাউটার ব্যবহার করুন। 

কেননা বেশিরভাগ ডিভাইসই 2.4GHz ফ্রিকোয়েন্সিতে চলায় একটি নেটওয়ার্ক জ্যাম তৈরী হবে, যার ফলে আপনি ওয়াইফাই এর ঠিকঠাক স্পীড পাবেন না।

আরো দেখুনঃ ২০ হাজার টাকায় বাজেট পিসি বায়িং গাইড ২০২০

তবে যদি আপনার আশেপাশে তেমন বাড়িঘর বা লোকজন না থাকে তবে আপনি সিঙ্গেল ব্যান্ড রাউটার ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া আপনার যদি হাই স্পীড ইন্টারনেট প্রয়োজন না হয় তাহলেও আপনি সিঙ্গেল ব্যান্ড ব্যবহার করতে পারেন। 

➥ রাউটারের জীবনকাল

নেটওয়ার্কিং হার্ডওয়্যারগুলোকে অনেক প্রেসার সহ্য করতে হয়, ফলে এগুলো বেশিদিন স্থায়ী হয় না। অনেকদিন ধরে একই রাউটার ব্যবহার করলে স্বাভাবিকভাবেই এর মান কিছুটা হ্রাস পায়। 

ভালো মানের রাউটারগুলোর আয়ু ভালো হয় এবং বারবার পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। মানসম্পন্ন রাউটার ব্যয়বহুল হলেও এগুলো কেনাই সবচেয়ে উপযুক্ত। অল্প দামে কয়েকদিন পর পর রাউটার কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। 

➥ একাধিক অ্যান্টেনা

অ্যান্টেনা আপনার রাউটারের রেঞ্জ বাড়িয়ে তোলে। আপনি যদি একটি বড় এলাকাজুড়ে ইন্টারনেট কানেকশন পেতে চান তাহলে আপনাকে বেশি অ্যান্টেনাযুক্ত রাউটার ব্যবহার করতে হবে। 

অথবা ধরুন, আপনার বাড়িতে অনেকগুলো রুম আছে, সবগুলো রুমে ঠিকঠাক নেটওয়ার্ক পেতে ৪/৬ অ্যান্টেনার রাউটার ব্যবহার করতে হতে পারে। 

তবে অনেকে মনে করেন রাউটারে যত বেশি অ্যান্টেনা থাকবে সেটি তত ভালো রাউটার হবে। এটি সম্পূর্ণ সত্য নয়। 

➥ সবশেষে

রাউটার কেনার সময় উপরের বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। কেনার আগে সবসময় সেই রাউটারটি সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের রিভিউ দেখুন। সব রাউটারেই যে সবরকমের ফিচার থাকবে এমন কোনো কথা নেই। 

কিছু রাউটার ব্যবহার করা সহজ আবার কিছু রাউটার ভালো স্পীড সরবরাহ করে। তাই এক্ষেত্রে, আপনার প্রয়োজনের সাথে মিল রেখে রাউটার বাছাই করা প্রয়োজন। 

ভিডিও কল, সিনেমা এবং ভিডিও দেখা যদি আপনার প্রধান প্রয়োজন হয় তবে ভালো মানের নেটওয়ার্ক স্পীড দরকার। আপনার রাউটারটি যদি সিঙ্গেল ব্যান্ড হয় বা 802.11ac সাপোর্ট না করে তাহলে আপনাকে সমস্যায় পড়তে হবে, তাই না?

Post a Comment

0 Comments