১০ টি অদ্ভুত ফোবিয়া যেগুলো আপনাকে চমকে দেবে!

অদ্ভুত ১০ টি ফোবিয়ার নাম, Eisoptrophobia, Ablutophobia, Plutophobia, Globophobia, Linonophobia, Nomophobia, Pantheraphobia, Vestiphobia.

ফোবিয়া (Phobia) হলো কোনো বস্তু, পরিস্থিতি বা জীবন্ত জিনিসের প্রতি অযৌক্তিক ভয়। এই ভয় একজনের ব্যক্তিজীবনে প্রচুর দুর্দশা সৃষ্টি করতে পারে এবং বেশিরভাগ লোকই তাদের ভয়ের উৎসগুলো এড়িয়ে চলে।

আপনি হয়তো কিছু কমন ফোবিয়ার কথা শুনেছেন, যেমন উচ্চতার ভয় (অ্যাক্রোফোবিয়া) বা মাকড়সার ভয় (আরাকনোফোবিয়া)। আজ এই ব্লগে আমার প্রথম পোস্টে আমি আপনাদের সাথে কিছু  অদ্ভুত ফোবিয়া এবং সেগুলোর বিস্তারিত ব্যাখা দেয়ার চেষ্টা করবো।

➡ Eisoptrophobia (আয়নার প্রতি ভয়)

আয়না দেখে ভয় পাওয়াকে Eisoptrophobia বলে। এ ফোবিয়াতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা আয়নাতে নিজেদের প্রতিবিম্ব দেখতে ভয় পান।
সাধারণত বিভিন্ন কুসংস্কার থেকেই মানুষের মনে এই ভয়টা সৃষ্টি হয়।

অনেকে বিশ্বাস করেন যে, ভাঙা আয়না মন্দ ভাগ্যের লক্ষণ। আবার একদল মনে করেন, আয়নাতে ভূত বা সুপারন্যাচারাল জিনিস দেখার সম্ভাবনা আছে, তাই তারা আয়না এড়িয়ে চলেন।

কেউ কেউ আবার নিজেদের শারীরিক গঠন নিয়ে লজ্জায় থাকেন, যার ফলে তারা আয়নার সামনে যেতে চান না। এটি তাদেরকে ডিপ্রেশনের দিকে নিয়ে যায়।

➡ Ablutophobia (গোসলের প্রতি ভয়)

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজেদের শরীরকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে বা পানি দিয়ে ভেজাতে ভয় পান। 
সাধারণত, শিশুদের মধ্যেই এই ফোবিয়া বেশি দেখা যায়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার পরেও এই ফোবিয়া উপস্থিত থাকে।

➡ Plutophobia (টাকা পয়সা বা সম্পদের প্রতি ভয়)

এই রোগে আক্রান্ত লোকের সংখ্যা বোধহয় সবচেয়ে কম। টাকা পয়সাকে ভয় পায় এমন লোক আবার আছে নাকি! 
Plutophobia তে আক্রান্ত লোকেরা সম্পদশালী লোকদেরকে এবং নিজেরা সম্পদশালী হতে ভয় পান। অদ্ভুত বটে!

➡ Hexakosioihexekontahexaphobia (666 নাম্বারটির প্রতি ভয়)

"৬৬৬" এই নাম্বারটিকে ভয় পাওয়ার ফোবিয়াকে বলা হয় Hexakosioihexekontahexaphobia। নাম্বারটিকে "Number of the beast" বা শয়তানের নাম্বারও বলা হয়ে থাকে।

➡ Globophobia (বেলুনের প্রতি ভয়)

গ্লোবোফোবিয়া হলো বেলুনের প্রতি ভয়। ভয়ের মাত্রা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয়। আক্রান্ত লোকেরা বেলুন থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে। অনেকের ভয় এত বেশি যে, তারা টিভিতে বেলুন দেখতে পেলেও ভয় পায়।
ছোটবেলায় বেলুন ফেটে তীব্র আওয়াজ হওয়া এই ফোবিয়ার কারণ হতে পারে।

➡ Linonophobia (দড়ি/ রশির প্রতি ভয়)

লিনোনোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা দড়ির কথা চিন্তা করতেও ভয় পান। আক্রান্তরা সুতা দিয়ে সেলাই, দড়ির তৈরী কোনো সরঞ্জাম ইত্যাদি সবসময় এড়িয়ে চলেন।

যে ব্যক্তি রশি দ্বারা কোনো আঘাত, যেমনঃ শাস্তি বা অপহরণ হওয়ার অভিজ্ঞতা পায়, তার লিনোনোফোবিয়া হতে পারে।

➡ Nomophobia (ফোন ছাড়া থাকার ভয়)

আপনি কি মোবাইল ফোন ছাড়া থাকতে ভয় পান বা বিষন্ন বোধ করেন? তার মানে, আপনিও নোমোফোবিয়ায় আক্রান্ত। বর্তমানে এই ফোবিয়া বেশিরভাগ মানুষের মাঝেই দেখা যায়, যার প্রধান কারণ হলো মোবাইলে আসক্তি। 

➡ Pentheraphobia (শাশুড়ির প্রতি ভয়)

আমি জানি আপনি এটি দেখে মিটমিট করে হাসছেন। সবাইই কমবেশি নিজেদের শাশুড়িকে ভয় পায়, যদিও আমার এখনো বিয়ে হয়নি তাই আমার সেরকম অভিজ্ঞতা নেই। সাধারণত কোনো অপ্রীতিকর বা মানসিক আঘাতের কারণে Mother-in-law "Monster-in-law" তে পরিণত হয়।

➡ Vestiphobia (জামাকাপড়ের প্রতি ভয়)

বেশিরভাগ লোকের ক্ষেত্রে, নির্দিষ্ট কোনো কাপড়ের প্রতি এই ফোবিয়া কাজ করে। অনেকে আবার টাইট-ফিটিং জামাকাপড় পড়তে ভয় পান। কাপড়ে অ্যালার্জি বা জামাকাপড় নিয়ে ঘটে যাওয়া কোনো খারাপ ঘটনা এই ফোবিয়াটিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

➡ Decidophobia (সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাওয়া)

সিদ্ধান্ত নেয়াটা এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য একটা অসম্ভব কাজ। তারা নিজেদের সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা রাখতে পারে না। বেশিরভাগ আক্রান্ত ব্যক্তিরা সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য অন্য কারো সাহায্য নেন। রোগটি বাড়তে থাকলে ধীরে ধীরে মানুষ অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে যায়। এই মানসিক সমস্যাটিকে বলা হয় "dependent personality disorder"। 

অনেকেই নিজেদের ফোবিয়াগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে অ্যালকোহল বা বিভিন্ন মাদকের সাহায্য নেয়। যা শরীরের জন্য মোটেও সুখকর নয়। কিছু সময়ের জন্য উপকার পাওয়া গেলেও মাদক দেহের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে। তাই এক্ষেত্রে সাইকোলজিস্ট এর পরামর্শ নিলে সবচেয়ে ভালো হয়। 

পোস্টটি কেমন লাগলো জানাতে পারেন, নিচের কমেন্ট বক্সে। যেহেতু এটি আমার প্রথম পোস্ট তাই লেখার ভুল-ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিলে উপকৃত হবো। ধন্যবাদ।

2 Comments

Write your opinion

  1. ভালো লিখেছেন। আশা করি ভবিষ্যতেও বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিষয়ে এই ব্লগে লেখা চালিয়ে যাবেন। ধন্যবাদ।

    ReplyDelete
Previous Post Next Post