সাহারা মরুভূমির রহস্যময় দৈত্যাকার নীল চোখ - জানলে অবাক হবেন!

সাহারা মরুভূমি সম্পর্কে যদি আপনাকে কোনো প্রশ্ন করা হয় তবে আপনি নিশ্চয়ই উত্তর দেবেন যে, সাহারা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সর্বাধিক তাপমাত্রার মরুভুমি। ক্ষেত্রফলের দিক দিয়ে এটি প্রায় ইউরোপ মহাদেশের সমান এবং এটি উত্তর আফ্রিকার ১১টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত।

এই মরুভূমিতে আছে অনেক রহস্য, যার মধ্যে বিশাল নীল চোখ বা The Giant Blue Eye একটি। এটি Richat Structure নামেও পরিচিত। এই স্ট্রাকচারটি প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত। Google Map Location
🔗


মানুষের মত দেখতে না পারলেও স্থাপনাটি দেখতে অনেকটা মানুষের চোখের মতোই। এর এমন আকৃতিই একে রহস্যময় করে তুলেছে। মহাকাশ থেকেও এই দৈত্যাকার চোখটি স্পষ্ট দেখা যায়। চোখের আকৃতির স্থাপনাটিকে ঘিরে বিভিন্ন রহস্য আছে যার আজও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব হয়নি। 

এটি কী মানুষের তৈরী? নাকী কোনো এলিয়েনের কারসাজি? নাকী রুপকথার হারিয়ে যাওয়া কোনো শহর?

আলোচনার খাতিরে আমরা ধরেই নিচ্ছি এটি মানুষের তৈরী। এখন প্রশ্ন হলো, সে সময়কার মানুষের কাছে বাস্তবেই কি এতটাই উন্নত প্রযুক্তি ছিল? যা দিয়ে তারা বিশাল মরুভুমির মাঝে একটি শিল্পকর্ম তৈরী করবে। 🤔

The Giant Blue Eye সম্পর্কে ৩টি খুব জোরালো থিওরী উঠে এসেছে। যদিও ৩ টি থিওরীর একটির সঙ্গে অন্যটির কোনো যোগসূত্র নেই, কিন্তু ইন্টারনেটে এই ৩টি থিওরীর ডকুমেন্টারী আপনাকে তিন ভাবেই ভাবতে বাধ্য করবে।

১. প্রাচীন এলিয়েন

২. অ্যাটলান্টিস শহর

৩. বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ

১. প্রাচীন এলিয়েন থিওরী অনুসারে, এটি একটি এলিয়েন বেস ক্যাম্প, যারা অনেক পূর্বে পৃথিবীতে এসেছিলো। এরা মানুষের DNA পরিবর্তন করে একটি পরিকল্পিত বুদ্ধিমান প্রাণী বানিয়েছে। যদিও প্রাচীন এলিয়েন থিওরি এবং বিবর্তনবাদ থিওরি দুটি সম্পর্ণ বিপরীত মতবাদ। 

বিবর্তনবাদ তত্ত্ব ঈশ্বরের অস্তিত্বকে সরাসরি বহিস্কার করে দেয় এবং প্রাচীন এলিয়েন তত্ত্ব ঈশ্বরকে এলিয়েন (বিশেষ কোনো সুপেরিয়র সভ্যতার ভিনগ্রহী প্রাণী) রূপে বর্ণনা করে। যাইহোক এটা নিয়ে কথা বলতে গেলে রাত-দিন এক হয়ে যাবে।

২. অ্যাটলান্টিস শহর - গ্রিক মিথোলজিক্যাল বইগুলোতে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া উন্নত শহর অ্যাটলান্টিস যে বর্ণনা দিয়েছে তা সরাসরি The Giant Blue Eye এর গঠনের সঙ্গে মিলে যায়। 


বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে পাওয়া যায়, The Giant Blue Eye তে যে শিলা গুলো পাওয়া যায় তা একমাত্র পানির নিচে বহুদিন থাকার ফলেই সৃষ্টি হওয়া সম্ভব ( বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে সাহারা মরুভূমি আগে মরুভুমি ছিল না )। অবাক হবেন না।

পৌরাণিক শহর ট্রয় এর অস্তিত্বের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে। হতে পারে অ্যাটলান্টিসও কোনো মিথ নয়, সত্যি একটি শহর, যাকে ঘিরে মিথ বানানো হয়েছে!

৩. বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে একটি বড় ঝিলের মাঝের অংশ হিসেবে ধরা হয়। কারণ এটাও প্রমাণিত যে সাহারা মরুভুমি কয়েক হাজার বছর আগে বন, তৃণভূমি ও নদীর সমন্বয় গঠিত একটি ভূভাগ ছিল। তামানরাসেট নদী সাহারা মরুভূমির হারিয়ে যাওয়া সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।


বৈজ্ঞানিক ব্যাখা অনুসারে, সাহারা অঞ্চলটি মরুভুমিতে পরিণত হওয়ার সময় পানিগুলো চক্রাকার ভাবে জমা হয়ে আজকের The Giant Blue Eye বা দৈত্যাকার নীল চোখ গঠন করে।

সাহারার মূল্যবান ভূমি মরুভুমিতে পরিণত হওয়ার অনেক কারণ আছে, তার মধ্যে পৃথিবীর মেরু পরিবর্তন একটি। তবে আশা করা যায়, ১৫ হাজার বছর পর পৃথিবীর মেরু পুনরায় পরিবর্তন হবে এবং তখন সাহারা পুনরায় সবুজ ক্ষেত্রে পরিণত হবে। 

Post a Comment

3 Comments

  1. সাগর নন্দী15/2/21 11:35 AM

    অ্যাটলান্টিস শহর? নাকী আটলান্টিক শহর? আমিতো কোথাও পড়েছিলাম এটা গ্রিক মাইথোলজীর আটলান্টিক শহর?

    ReplyDelete
    Replies
    1. না ভাইয়া, অ্যাটলান্টিস শহরই। আপনি গুগল সার্চ করে দেখতে পারেন।

      Delete
  2. ভালা হইছে।

    ReplyDelete

Write your opinion