কাঁদুনে গ্যাস কী? কাঁদুনে গ্যাসে চোখ নাক জ্বালাপোড়া করে কেন?

টিয়ার গ্যাস কী, টিয়ার গ্যাস কীভাবে কাজ করে, টিয়ার গ্যাস বা কাঁদুনে গ্যাস রাসায়নিক বিক্রিয়া, কাঁদুনে গ্যাস থেকে বাঁচার উপায়,

উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল বা কাঁদুনে গ্যাসের কথা আমরা প্রায়ই শুনি। এর অন্য নাম (ক্লোরোপিকরিন)। পুলিশ বেশিরভাগ সময়ে বেআইনী সমাবেশ ভঙ্গ করার জন্য কাঁদুনে গ্যাসের ব্যবহার করে থাকে। এর ব্যবহারে চোখে প্রচুর জ্বালা পোড়া করে বিধায় অবৈধ সমাবেশের অংশগ্রহণকারীরা ঐ জায়গায় থাকতে পারে না।

বিক্ষোভকারীদের সড়ানোর জন্য টিয়ারশেল মোক্ষম একটি অস্ত্র। জ্বালা ও ধোঁয়ার কারণে লোকেরা তাদের চোখে কিছু দেখতে পায় না যার কারণে তাদের পালাতে হয় অন্যথায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে নেয়।

টিয়ারশেলের কারণে কেন জ্বালাপোড়া হয় এবং কেন চোখ নাক দিয়ে পানি পড়তে থাকে সেই বিষয়েই আজকে আমরা জানবো এই আর্টিকেলে।

➦ টিয়ার গ্যাস বা কাঁদুনে গ্যাস কী? কত প্রকার?

প্রকৃতপক্ষে এটি কোন গ্যাস নয়। মিহি গুড়ো পাউডার কিংবা তরলের অতি ক্ষুদ্রকণার সমষ্টি নিয়ে এ গ্যাস গঠিত। টিয়ার গ্যাসের প্রভাবে মানুষের চোখের কর্নিয়ার স্নায়ুগুলো আক্রান্ত হয়। এর ফলে অঝোর ধারায় চোখ দিয়ে অশ্রু বের হয়, ব্যথা শুরু হয়। এই গ্যাসে ক্যামিকেল গুড়োর মধ্যে ক্ষারজাতীয় রাসায়নিক পদার্থ থাকে। যার প্রভাবে চোখ প্রচণ্ড জ্বালা করে।
টিয়ার গ্যাস বা কাঁদুনে গ্যাসের প্রভাব ৩০ সেকেন্ড পর থেকে শুরু হয় এবং প্রায় ৪৫ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

➦ টিয়ার গ্যাস বা কাঁদুনে গ্যাস সাধারণত ধরনের হয় - 

1. সিএস (ক্লোরোবেঞ্জালমালোনোনাইট্রাইল বা ও-ক্লোরোবেঞ্জিলাইডিন ম্যালোনোনাইট্রিল ) - এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত টিয়ার গ্যাস। CS বা chlorobenzylidenemalononitrile কে Lachrymator (ল্যাক্রাইমেটর) হিসেবে ব্যবহার করা হয়। Lachrymator হল এমন উপাদান যা চোখে অস্বস্তি বা জ্বালা পোড়ার সৃষ্টি করে। এর রাসায়নিক সংকেত C10H5ClN2

2. সিএন (ক্লোরোএসটোফেনোন) - এটি সিএস গ্যাসের চেয়ে বেশি বিষাক্ত এবং দ্রুত সময়ে কাজ করে। অতিরিক্ত প্রয়োগের কারণে কোনও ব্যক্তি অন্ধত্বের শিকার হতে পারেন। এর রাসায়নিক সংকেত C8H7ClO

3. ওএস (ওলেয়াম ক্যাপসিকাম) এবং পিএভিএ (PAVA) - এটিকে পেপার স্প্রে / মরিচ স্প্রে বলা যেতে পারে। কারণ এটি মরিচ থেকে তৈরি করা হয়। PAVA হলো গোলমরিচ থেকে প্রস্তুতকৃত এক প্রকার রাসানিক।

➦ কাঁদুনে গ্যাস কীভাবে কাজ করে?

এরা মূলত চোখ, নাক, মুখ এবং ফুসফুসের মিউকাস মেমব্রেনে পৌঁছে প্রদাহের সৃষ্টি করে। আর, তখনই এটিকে শরীর থেকে বের করে দেবার জন্য আমাদের ব্রেন অটোমেটিক ভাবে সিগনাল পাঠায়। তাই, চোখ ও নাক থেকে পানি পড়া, হাঁচি কাশি প্রভৃতির শুরু হয়। এছাড়া মুখ থেকে লালা নির্গত হওয়া, চোখে ঝাপসা দেখার মতো সমস্যাও দেখা যায়। এটি শিশু, বৃদ্ধ ও অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।


তাই, এর সমাধান জানাটাও জরূরী। যদি কখনো আপনি কাঁদুনে গ্যাসের শিকার হন, প্রথমত, সবচেয়ে ভালো হয় ঐ স্থান দ্রুত ত্যাগ করা। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে সাথে যদি মাস্ক ও গগলস থাকে, তা ব্যবহার করা একটি কার্যকরী উপায়।

একটি কাপড় লেমন জুস বা ভিনেগার জাতীয় এসিডে ভিজিয়ে নিয়ে, মুখে দিয়ে রাখতে পারেন। এতে, বেশ কয়েক মিনিট স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস চালাতে পারবেন। আর, যদি একেবারেই কিছু না থাকে, নিজের পরনের কাপড় ও রুমাল দিয়েই যতটুকু পারুন ঢেকে রাখুন চোখ, নাক এবং মুখ।

একটি ব্যবহৃত টিয়ারশেল

কিন্তু যদি দুর্ভাগ্যবশত ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়ে যান, তবে চোখের জ্বালাপোড়া ও শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিষ্কার পানির ঝাপটা দিতে থাকুন। আর, দয়া করে কখনোই উত্তেজিত হবেন না। কারণ মানুষ স্বাভাবিক থেকে যত না জ্বালাপোড়া অনুভব করে, উত্তেজিত হয়ে তার চেয়ে আরও বেশি যন্ত্রণা ভোগ করে।

যদিও টিয়ার গ্যাসে মৃত্যু ঘটায় না। সাময়িক যন্ত্রণার সৃষ্টি করে মাত্র। তাই, প্যানিকড হবার কিছু নেই। যদি কখনো দুর্ঘটনাবশত কোনো বিক্ষোভ মিছিলে কাঁদুনে গ্যাস দ্বারা আক্রান্ত হন, তাহলে উপরে বর্ণিত সাধারণ কিছু উপায় দিয়ে সহজেই প্রতিকার পেতে পারেন।
Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

buttons=(Accept !) days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !