ভিপিএন দিয়ে ঢোকা গেলেও সরকার কেন পর্ণ সাইট ব্লক করে রাখে?

আপনি জানেন কী? বাংলাদেশে IMDB কে পর্ন সাইট ভেবে ব্লক করে রাখা হয়েছিলো। Quora, Pinterest, Reddit, Blogger ইত্যাদি অনেক বড় বড় ওয়েবসাইটও অনেক সময়ে বাংলাদেশে ব্লকড ছিল। এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, বাংলাদেশ সরকার কেন ওয়েবসাইট ব্লক করে রাখে? আমরা তো চাইলেই ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করে ওসব ওয়েবসাইটে অনায়াসে প্রবেশ করতে পারি। তারা কী ব্যাপারটি জানে না? 

উত্তর হলো, হ্যাঁ। তারা সবকিছুই জানে। কিন্তু, কোনো ব্যবস্থা নেয় না কেন? 

কারণ হলো - একটা ওয়েবসাইট যেন সমাজের বা দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে পৌছাতে না পারে সেই জন্যেই ব্লক করা হয়। আপনার আমার জন্যে ভিপিএন দিয়ে পর্ন সাইটে কিংবা অন্য কোনো ব্লকড সাইটে ভিজিট করা পান্তাভাত, কিন্তু এই দেশে এমন অনেক মানুষ আছে (বিশেষত গ্রামের চাচাত ভাইরা) যারা ভিপিএন (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) এর নামও শুনে নাই। মূলত ব্লক করার মাধ্যমে সাইটগুলোর ব্যবহার ধীরে ধীরে কমে যায়, যদি না খুব বিখ্যাত/কুখ্যাত কোনো সাইট হয়ে থাকে, যেমন পর্ন সাইটগুলো।

পর্ণ সাইট ব্লক, পর্ণ সাইট, ভিপিএন, ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ সরকার, ভিপিএন কী এবং কীভাবে কাজ করে

ভিপিএন কীভাবে কাজ করে?

একটি সিম্পল উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটি বোঝার চেষ্টা করি। 

ধরুন, বাংলাদেশ সরকার একটি আইন করল যে, আমার দেশের লোক চীন থেকে কোনোকিছু আমদানী করতে পারবে না। কিন্তু আপনার যে পণ্য দরকার তা শুধুমাত্র চীনেই পাওয়া যায়। আপনার ভারতের কোনো এক কোম্পানীর সাথে ভালো সম্পর্ক আছে। আপনি তাকে বললেন যে, চীন থেকে পণ্যটি ক্রয় করে তোমার দেশে নিয়ে আসো, তারপর লেবেল পরিবর্তন করে ভারতের লেবেল দিয়ে আমার কাছে পাঠিয়ে দাও। সে তাই করলো!

বাংলাদেশ ভাবছে. আপনি ভারত থেকে পণ্য আমদানি করেছেন। কিন্তু আসলে পণ্যটি চীনের। এখানে বাংলাদেশ সরকারের কি করার আছে? যদি পণ্যটা চেক করতে পারতো তবে হয়তো কিছু করা যেত।

উদাহরণের সাথে বাস্তবের সম্পর্ক

প্রতিটি দেশের ইন্টারনেটের সকল তথ্য ও উপাত্ত একটা নির্দিষ্ট রাস্তা বা পথ দিয়ে যায়। যেটাকে গেটওয়ে বলা যেতে পারে। এটি একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকল বা নিয়ম মেনে চলে।

কোনো ওয়েবসাইট বন্ধ করতে হলে তার আইপি এড্রেস জানতে হয়। এবং সেটা ব্লক করা হয়। মনে করুন, একটা সাইটের আইপি এড্রেস ১৯২.১৬৮.৩২.৩২। এবার তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় গেটওয়েকে কমান্ড দিলো যে, গেটওয়ের মধ্য দিয়ে কেউ ১৯২.১৬৮.৩২.৩২ এই আইপিকে রিকোয়েস্ট করতে পারবে না। রিকোয়েস্ট করলে গেটওয়ে অটোমেটিক রিকোয়েস্ট বাতিল করবে। গেটওয়ে কোনো কন্টেন্ট পড়তে পারে না। সে শুধু আইপির সাথে কাজ করতে পারে। 

গেটওয়ে তো ওয়েবসাইটটি ব্লক করে দিয়েছে। এবার আপনি কী করবেন? 

এবার আপনি সরাসরি ওয়েব অ্যাড্রেসে রিকোয়েস্ট না করে উপরের উদাহরণের মতো অন্য একটি দেশের কাছে অর্থাৎ, ভিপিএন এর কাছে রিকোয়েস্ট পাঠালেন। তখন আপনি ১৩৩.১৪৩.২৩.৪৩ এই আইপিকে রিকোয়েস্ট করছেন। তখন গেটওয়ে সেটি ব্লক করবে না। কারণ ব্লকলিস্টে এই আইপি নেই। গেটওয়ে তো কন্টেন্ট দেখতে পারে না। তাই আপনি কি দেখছেন সে সেটা বোঝে না। তাই সে কন্টেন্ট ট্রান্সফার করতে থাকবে। 

আমাদের দেশে উপরোক্ত পদ্ধতিতে ওয়েবসাইট ব্লক করা হলেও চীন বিভিন্ন ভাবে ওয়েবসাইটগুলোকে ব্লক করে থাকে। যেমনঃ

  • ডিএনএস স্পুফিং
  • আইপি এড্রেস কিংবা আইপি রেঞ্জ ব্লক
  • ইউআরএল ফিল্টার
  • প্যাকেট ডাটা ইন্সপেকশন
  • কানেকশন রিসেট করা
  • এক্টিভ প্রোবিং
  • স্পেশাল সফটওয়্যার তৈরি এবং সেই সফটওয়্যার সকলকে ব্যবহারে বাধ্য করা। ইত্যাদি

এখন আপনি বলতে পারেন যে, ভিপিএন (VPN) সার্ভিস বন্ধ করছে না কেন? করলেই তো সব ঝামেলা শেষ! 

এটা কোনো দেশ করতে পারে না। কারণ এটা নিয়ম বিরুদ্ধ। তাছাড়া ভিপিএন অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হয়। তখন একজনের সুবিধার জন্য দশজনের সমস্যা হবে। বাংলাদেশের জন্য পর্ণসাইট খুবই ক্ষতিকর। আইনত সরকার সাইটগুলো দেশে বন্ধ করে, এখন আপনি আইনের বাইরে কিছু করলে তাদের কিছুই করার নেই। [তথ্য সংগ্রহঃ Quora]

Post a Comment

Write your opinion

Previous Post Next Post