কোকা-কোলা কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?

কোকা-কোলা কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? চলুন আলোচনা করা যাক :

ভালো-মন্দ যেকোনো খাবার খাওয়ার পর ঠান্ডা এক গ্লাস কোকা-কোলা যেন তৃপ্তি এনে দেয়। এই কোকা কোলায় আছে কি? ৩৫০ মিলি এক ক্যান কোকা-কোলায় আছে প্রায় ৩৮ গ্রাম বা ১০ চামচ চিনি। তাছাড়া কোকা কোলার অন্যান্য উপাদান হচ্ছে কার্বোনেটেড ওয়াটার, এসিডিটি রেগুলেটর ফসফরিক এসিড, প্রাকৃতিক ফ্লেভার। রঙের জন্য ব্যবহৃত হয় ক্যারামেল, ক্যাফেইন ও অনুমোদিত রঞ্জক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংখ্যা মতে, নারীদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ছয় চামচ ও পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন সর্বোচ্চ নয় চামচ চিনি খাওয়া যাবে। যেখানে এক ক্যান কোকা-কোলা পান করা প্রায় ১০ চামচ চিনি খাওয়ার মতো।

কোকা-কোলায় সুক্রোজ বা হাই ফ্রুক্টোজ কর্ণ সিরাপ হিসেবে থাকে চিনি। পানীয়ে ব্যবহৃত অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি স্বাদের জন্য যেকোনো মানুষের খাওয়ার সাথে সাথে বমি হওয়ার কথা। কিন্তু কোকা কোলায় উপস্থিত ফসফরিক এসিড অত্যাধিক মিষ্টি স্বাদ প্রশমিত করে রাখে। কোলা কোলা পানের ২০ মিনিটের মাঝে ব্লাড সুগার বেড়ে যায়, লিভার উচ্চ মাত্রার চিনিকে ফ্যাটে পরিণত করে। ৪০ মিনিটের মাথায় পানীয়তে থাকা ক্যাফেইন শরীর শোষণ করে নেয়। এই ক্যাফেইন এর প্রভাবে রক্তচাপ বেড়ে যায়। এই পয়েন্টে কোকা-কোলা মস্তিষ্কের অ্যাডিনোসিন রিসেপ্টরগুলোকে ব্লক করে দেয়।

ঠিক ৫ মিনিট পর, ডোপামিন উৎপাদন বেড়ে যায়। ডোপামিন এক ধরনের নিউরোট্রান্সমিটার যা মস্তিষ্কের আনন্দ, তৃপ্তি, অনুপ্রেরণা, ভালো লাগার অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। ডোপামিন মানুষের সকল সুখকর অনুভূতির জন্য দায়ী। পানীয়তে থাকা ক্যাফেইনের প্রভাবে মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ হয়, ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি হয়, এক বোতল কোকা-কোলা পান করার পর আরও এক বোতল কোক পান করার ইচ্ছা জাগে। কোক শুধুমাত্র একটি হাই ফ্রুক্টোজ কর্ণ সিরাপ নয় বরং এতে আছে পরিশোধিত লবণ ও ক্যাফেইন। এটি সকল ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় এর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

প্রশ্ন হচ্ছে, নিয়মিত কোকা-কোলা পান করলে মানবদেহে কি কি ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে?

ভিটামিন অভাব : কোকা-কোলায় ক্যাফেইনের সাথে আছে ফসফরিক এসিড। এরা ডিউরেটিক ইফেক্ট বাড়ায়। পানীয় পান করার ৬০ মিনিটের মাথায় দেহ থেকে ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান বের হয়ে যায়। তাহলে ভাবুন প্রতিদিন কোকা-কোলা পান করলে কি হবে?

দাঁত ক্ষয় : কোকা-কোলার উপাদানে উচ্চমাত্রায় চিনি ও অম্লতা থাকার এরা দাঁতের এনামেল ক্ষয় করতে পারে, ক্যাভিটি সৃষ্টি করে পারে। ভিটামিন স্বল্পতার কারণে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কমতে থাকে। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে দাঁতের ভিতর ও বাইরে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।

উদ্বেগ-দুশ্চিন্তা : ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটার পাশাপাশি উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা দেখা দিতে পারে। এক কাপ কফির সমপরিমাণ ক্যাফেইন থাকে এক ক্যান কোকে। ক্যাফেইন আসক্তি সৃষ্টি করে বিধায় ছাড়তে চাইলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা, বিরক্তিভাব, ডিপ্রেশন দেখা দিতে পারে। সাইন্স বী

ওজন বৃদ্ধি : কোকা-কোলায় আছে সুক্রোজ বা হাই ফ্রুক্টোজ কর্ণ সিরাপ। এ ধরনের চিনিজাতীয় পানীয় পান করার ফলে ক্ষুধা বরং বাড়ে। সোডা পান করার পর সাধারণের তুলনায় বেশি ক্যালরি গ্রহণ করতে দেখা যায় মানুষকে। মিষ্টি পানীয় ওজন বৃদ্ধির সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।

এছাড়াও নিয়মিত পানীয় পান করলে ঘুমে ব্যাঘাত, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের রোগ, ডায়বেটিস, স্থূলতা দেখা দিতে পারে। চিন্তার কিছু নেই, কোকা-কোলা, মিষ্টি পানীয় স্পল্প মাত্রায় পান করলে স্বাস্থ্যের উপর এইসব ক্ষতিকর প্রভাব পড়বেনা। ভালো-মন্দ খাবারের সাথে এক চুমুক কোকা কোলা না হলে কি চলে?

Post a Comment

Write your opinion

Previous Post Next Post